দুপুর ৩টা, মহাজাতি সদনে জ্যোতিষীদের সম্মেলন চলছে। সাজানো মঞ্চের উপরকয়েকজন জ্যোতিষী আলো করে বসে আছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের ছবি বিভিন্নপত্রিকায় বিঞ্জাপনে দেখেছি। একজন মাইক্রোফোনে ভাষণ দিচ্ছিলেন।সবাই চুপচাপ শুনছিলেন। এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাক। কিন্তু গোলমাল শুরু হল যখন 'যুক্তিবাদী সমিতি 'র তরফে থেকে প্রবীর ঘোষের চ্যালেঞ্জ-এর চিঠি মঞ্চের বক্তার কাছেপৌছে গেল। চিঠির কয়েকটা লাইন পড়ার পর 'হলে' উপস্থিত জ্যোতিষীরা আপত্তি তুলতেলাগলেন, :" এই চিঠি এখানে পড়া হবে না' বা ' চ্যালেঞ্জ নেওয়া হবে না ।"এর মধ্যেই প্রবীর ঘোষ মঞ্চের উপর উঠে গেছেন এবং উপস্থিত জ্যোতিষীদেরকেসরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বললেন, " জ্যোতিষীরা দাবি করেন প্রতিটি মানুষের ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত। তাই আমার দেওয়া চারজধ ব্যক্তির আগাম মৃত্যুদিন ঘোষণা করুন। সেইসৈই ব্যক্তির মূত্যুর পর মিলিয়ে দেখা হবে যে ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে কি না। যদি সত্যি হয় তাহলে ২০ লক্ষ টাকা দেবএবং যুক্তিবাদী সমিতি ভেঙি দেবো। "
কিন্তু না, উপস্থিত শ-খানেক জ্যোতিষীদের মধ্যে একজনও প্রবীর ঘোষের চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করলেন না। তাহলে কিজ্যোতিষীরা তাদের নিজেদের ' ভাগ্য পূর্ব নির্ধারিত ' কথায় বিশ্বাস করেন না? মনে হয় না। যদি করতেন, তাহলে প্রবীরঘোষের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেন।
কয়েকজন জ্যোতিষী প্রবীর ঘোষকে বললেন, " আপনি এসেছেন, খুব ভাল কথা। কিন্তু চ্যালেঞ্জ আমরা নিচ্ছি না।সম্মেলনে থাকুন এবং আমাদের কথা শুনুন।" প্রবীর ঘোষ তো জ্যোতিষীদের কথা মতই সম্মেলনে এসেছেন-- তাদেরদাবির প্রমাণ করার জন্য এই চ্যালেঞ্জ। উপস্থিত জ্যোতিষীদের দেখে মনে হতে লাগল, প্রবীর ঘোষের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেএসে জ্যোতিষীদের এতো দ্বিধা, দ্ধন্দ্ধ, ভয় কেন? তাহলে কি জ্যোতিষশাস্ত্র প্রতারণা মাত্র এবং 'যে যতবড় জ্যোতিষী সেতত বড় প্রতারক ' প্রমাণ হয়ে যাবে -- সবার সামনে ?
গোলমাল একটু শান্ত হতেই দেখি কয়েকজন লাঠিধারী পুলিশ হলঘরে প্রবেশ করল। এদেরকে আবার কারা ডেকে আনল?পরে জেনেছিলাম জ্যোতিষীরাই ! শুধু একজন প্রবীর ঘোষ এবং তাঁর চ্যালেঞ্জকে ঠেকাতে গ্রহ-নক্ষত্র, কুষ্ঠি-রাশিচক্র,গ্রহরত্নের উপর ভরসা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপর ভরসা ? তার মানে জ্যোতিষীরা নিজের ভাগ্য, গ্রহ-রত্নের উপরএকটুকুও বিশ্বাস রাখেন না।সত্যি, একেই বলে ভন্ডাভি, প্রতারণা।
Comments
Post a Comment